চঞ্চল, মোশাররফ করিমকে দেখে মনে হয় ওরে বাবা ওরা কি দুর্দান্ত

চঞ্চল, মোশাররফ করিমকে দেখে মনে হয় ওরে বাবা ওরা কি দুর্দান্ত

দুই বাংলা জনপ্রিয় অভিনেতা খরাজ মুখার্জি বাংলাদেশের শাপলা মিডিয়ার প্রয়োজনা ‘প্রিয়া রে’ সিনেমায় শুটিং করছেন চাঁদপুরে। তার সঙ্গে কাজ করতে এই সিনেমায় কলকাতা থেকে এসেছেন টালিউডে জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা রজতাভ দত্ত। পদ্মা পাড়ের শুটিংয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেতা।

চাঁদপুরের শুটিং অভিজ্ঞতা সর্ম্পকে খরাজ মুখার্জি বলেন, ‘অসাধারণ। আগে কয়েকবার বাংলাদেশে শুটিং করতে এসেছি। কিন্তু এই রকম পরিবেশ পেলাম এই প্রথম। পুকুরে হাঁস গোসল করছে, মাছ লাফাচ্ছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।

চারদিকে গ্রামের মানুষ, গ্রামীন ঘরবাড়ি। ভীষণই শান্ত পরিবেশ। একটা ব্যাপার কি জানেন তো, এই বাংলাদেশে এলেই উপলব্দি করি যে আমি বাঙালি। আমার ধারণা কলকাতার সবাই এটা ফিল করেন। কারণ কলকাতায় বাংলায় কথা বলছি এটুকু ছাড়া আর কিছুতে কিন্তু বাঙালিয়ানার সেই ভাব বা আচারটা নেই।

বাংলাদেশে পা রাখতেই যেটা অনুভব করা যায়। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে গ্রাম খুব পছন্দ করি। করোনাকালীন পুরো দেড় বছর কাটিয়েছি বীরভূমে আমার গ্রামের বাড়িতে। সেখানে চাষ করেছি, বাগানের ঘাস কেটেছি। একেবারে অন্য একটা জীবন।

এখানে এসেও সেটা ফিল হচ্ছে। সেদিক থেকে ‘প্রিয়া রে’ সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেলিম খান ভাইকে ধন্যবাদ তিনি চাঁদপুরের এই গ্রামে এনে কাজ করার সুযোগ করে দিলেন।’

এই অভিনেতা তার নতুন ছবির চরিত্র নিয়ে বলেন, ‘এ সিনেমায় আমি নায়কের বাবা। যে কি না যুবক বয়সে ডাকাত ছিলো। ডাকাত মানে বিরাট ডাকাত। একে ধরে তো ওকে মারে

। ভয়ানক সব কারবার। সেই লোক পড়ন্ত বয়সে এসে চলতে টলতে পারে না।

ছেলের উপর ভর দিয়ে চলতে হচ্ছে। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা চরিত্র। বলতে পারেন যে এমন একটা চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম আমি। আগে কখনো করা হয়নি। আর পরিচালক পূজনকে আমি আগে থেকেই চিনি। ওর প্রথম সিনেমা এটা। বেশ গুছিয়ে কাজ করছে। ভালো লাগছে খুব কাজ করতে।’

বাংলাদেশের অনেক শিল্পীর প্রশংসা করে খরাজ মুখার্জি বলেন, ‘এখানে অনেকেই আছেন তুখোড় অভিনেতা। একটা সময় মনে হতো যে আমি বিরাট একটা কেউ। কিছু জনরায় আমার মতো কেউ নেই। কিন্তু আপনাদের চঞ্চল, মোশাররফ করিমদের দেখে মনে হয় ওরে বাবা, ওরা কি দুর্দান্ত।

জয়া আহসানের কথা তো না বললেই নয়। ও যখন ‘বিসর্জন’ করলো অবাক হয়ে গেলাম ওর কাজ দেখে। আমার মনে আছে ওকে বলেছিলাম, ‘ওরে দিদিভাই, তোমার পাসপোর্টটা আমায় দিয়ে দাও। তোমাকে আর বাংলাদেশে যেতে দেবো না। ও হচ্ছে জাত শিল্পী।

ওদের সঙ্গে আমার নিয়মিতই যোগাযোগ হয়। নিয়মিত কথা হয় আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরীদের সঙ্গেও। কি দারুণ অভিনয় করে ওরা। অল্প বাজেটের নাটকে ওরা যা করে সেটা তো অসাধারণ। ভীষণ জনপ্রিয় কিন্তু ওরা কলকাতাতেও।’

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!