এই ১০টি শা’রীরিক স’মস্যায় অ্যালোভেরা যাদুর মত কাজ করে

এই ১০টি শা’রীরিক স’মস্যায় অ্যালোভেরা যাদুর মত কাজ করে

প্রাচীন মিশরীয়রা ‘অ্যালোভেরা’কে ‘True miracle plant’ অর্থ্যাৎ সত্যিকারের অলৌকিক ক্ষ’মতা সম্পন্ন গাছ বলে আখ্যায়িত ক’রতেন। অ্যালোভেরা পাতার জে’লকে তারা তাদের সৌন্দর্য বৃ’দ্ধি, স্বা’স্থ্য এবং মঙ্গল বৃ’দ্ধির প্রতীক হিসেবে মানতো।

শুধু সৌন্দর্য চর্চায় নয়, মিশরীয়রা তাদের মৃ’তদে’হ সংরক্ষণেও অ্যালোভেরা জে’ল ব্যবহার করতো বলে জা’না যায়। ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস প্র’তিরো’ধকারী উপাদান রয়েছে অ্যালোভেরাতে। সুপ্রাচীন কাল থেকে শুধু মিশরে নয়, চীনেও অ্যালোভেরা বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।

অ্যালোভেরাকে আম’রা ঘৃতকুমা’রী নামেও জানি। এই উদ্ভিদটিতে আমাদের সুস্বা’স্থ্য ও সৌন্দর্য র’ক্ষার অনেক উপাদান ভরপুর রয়েছে। এটি একটি কাণ্ডবিহীন রসালো এবং শাসযুক্ত গাছ। এই গাছটি গড়ে ৬০-১০০ সে.মি লম্বা হয়।

অ্যালোভেরাতে প্রায় ২০ ধ’রনের মিনারেলস রয়েছে, তার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, সেলেনিউম, ক্রোমিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, কপার ও ম্যাংগানিজ অন্যতম। আজ পাঠকদের জন্য দেয়া হলো অ্যালোভেরা জুসের স্বা’স্থ্য উপকারিতা।

১. হ’জমজনিত স’মস্যায়: হ’জমজনিত স’মস্যা দূ’র ক’রতে অ্যালোভেরা জুসের অন্যতম একটি প্রাচীন পদ্ধতি। পে’টের অতিরি’ক্ত গ্যাস, অতিরি’ক্ত অম্লতা,

পে’টের ভেতরে জ্বা’লা পোড়া এবং অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে পে’টের প্রদাহ- এসব স’মস্যার সমাধান হতে পারে অ্যালোভেরা জুস। প্রতিদিন এই জুস এক গ্লাস করে পান করলে এক সপ্তাহের মধ্যে হ’জমজনিত স’মস্যা কমে আসবে।

২. কোষ্ঠকাঠিন্যে: গবেষণায় দেখা যায়, অন্ত্রে জলীয় উপাদানের বৃ’দ্ধির ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকাংশেই প্র’তিরো’ধ করা সম্ভব। যদি আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে ভুগে থাকেন তাহলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এক গ্লাস অ্যালোভেরা জুস যুক্ত করুন, এতে করে আপনার অন্ত্রে স্বা’স্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার বৃ’দ্ধি ঘটবে এবং আপনার সু’স্থ অন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

৩. ডায়াবেটিসে: র’ক্তে সুগারের মাত্রা নি’য়ন্ত্রণে অ্যালোভেরা জুস থেরাপি বেশ সুপরিচিত। প্রাথমিক গবেষণা থেকে জা’না যায়, ‘অ্যালোভেরা জুস গ্রহণ করার ফলে র’ক্তে গ্লুকোজে’র মাত্রা উন্নত হয়।’

অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক এবং ম্যাংগানিজ, যা ইনসুলিনের কা’র্যকারিতা উন্নত করে। অ্যালোভেরা জুস গ্রহণ করার পর থেকে ঘন ঘন ডায়াবেটিস মনিটরিং করা প্রয়োজন এবং ডাক্তারের কাছ থেকে নি’র্দেশিকা অনুযায়ী অ্যালোভেরা জুস ও ওষুধের মধ্যে সমন্বয় করা উচিত।

৪. বুক জ্ব’লাপোড়ায়: অ্যালোভেরার অন্যতম একটি উপকারী দিক হলো বুকে জ্ব’লাপোড়া কমাতে সাহায্য করা। এমনকি অ্যালোভেরা প্রচলিত যেকোনো অ্যাসিডিটি ওষুধের চেয়ে দ্রুত কাজ ক’রতে সক্ষম। ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ‘অ্যালোভেরা জুস পার্শ্বীয় ঔষধের চেয়ে দ্রুত অ্যাসিড রিফাক্সের উপস’র্গ হ্রাস করে এবং তা যেকোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।’

৫. লিভার রো’গ প্র’তিরো’ধে: লিভার সু’স্থ তো আপনিও সু’স্থ। যখন আপনার শ’রীর পরিপূর্ণরূপে পুষ্টি ও হাইড্রেট থাকে, তখন লিভার সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জুস লিভারের জন্য আদর্শ, কারণ এটি হাইড্রেটিং এবং ফায়োটেন্টেটিউটে সমৃদ্ধ। ফলে লিভারের বিভিন্ন রো’গ প্র’তিরো’ধ হয়।

৬. বি’ষণ্ণতায়: একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়েটে অ্যালোভেরা অ’ন্তর্ভূক্ত করার ফলে ম’স্তিষ্কের স্মৃ’তিশ’ক্তির অবস্থা আরো উন্নত হয় এবং সবচেয়ে গু’রুত্বপূর্ণ দিকটি হলো বি’ষণ্ণতা অনেকাংশে কমে যায়। এই দারুণ ফলাফল মূলত অ্যালোভেরার Saccharides এর জন্য সম্ভব হয়।

৭. মুখের রো’গ প্র’তিরো’ধে: অ্যালোভেরা জুস প্রাকৃতিক মাউথ ওয়াশ অতুলনীয়। মুখের ভেতরের রো’গ-জী’বাণু ও ব্যাকটেরিয়া দূ’র ক’রতে অ্যালোভেরারজুড়ি নাই। ভারতীয় এক গবেষণায় বলা হয়, দাঁতের চিকিৎ’সায় অ্যালোভেরার ব্যবহার সীমাহীন। অ্যালোভেরা কোনো পার্শ্বপ্র’তিক্রিয়াহীন মাউথ ওয়াশ হিসেবে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা সম্ভব। এই উদ্ভিদের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান মুখ ও দাঁতের সু’স্থতা বজায় রাখতে সক্ষম। দাঁত ও মাড়ির স’মস্যা ও মাড়ি থেকে র’ক্তপাতজনিত স’মস্যাগুলো খুব সহজেই অ্যালোভেরার মাধ্যমে প্র’তিরো’ধ করা সম্ভব।

৮. ক্যা’ন্সার প্র’তিরো’ধে: ক্যা’ন্সার বিরো’ধী উপাদান বেশিরভাগই বিভিন্ন গাছপালাতে পাওয়া যায় আর অ্যালোভেরা তাদের মধ্যে একটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে চালানো এক গবেষণা অনুযায়ী, ‘অ্যালোভেরা ক্যা’ন্সারের কোষ বৃ’দ্ধিতে বা’ধা সৃষ্টি ক’রতে ও ক্যা’ন্সারের কা’র্যকারিতা ব’ন্ধ ক’রতে সক্ষম।’ এটি ক্যা’ন্সার টিউমা’রের বৃ’দ্ধি থামাতে ও কোলন ক্যা’ন্সার প্র’তিরো’ধ ক’রতে পারে। অ্যালোভেরা ক্যা’ন্সার প্র’তিরো’ধক হার্বগুলোর কা’র্যকারিতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

৯. হৃদরো’গে: একটি প্র’তিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৫,০০০ রো’গী (পাঁচ বছরের জন্য বুকে বা হৃদরো’গে আক্রা’ন্ত) যাদের অ্যালোভেরা জুস পান করানো শুরু করা হয় এবং তাদের ব্য’থার উপস’র্গে কমে যায়। শুধু তা-ই নয়, তাদের কোলেস্টেরল এবং র’ক্তে শর্করার মাত্রা কমা’র প্রমাণও পাওয়া যায়। অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, কয়েকজন রো’গী যাদের র’ক্তে হাই কোলেস্টেরল রয়েছে, তাদেরকে বারো সপ্তাহের জন্য অ্যালোভেরা জুস পান করানোর ফলে র’ক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা পনেরো শতাংশ কম পাওয়া যায়।

১০. শ’রীর দূষণে: অ্যালোভেরার অন্যতম উপাদান পটাশিয়াম লিভার ও কি’ডনিকে পরিস্কার ক’রতে সাহায্য করে। এছাড়া অ্যালোভেরার ইউরনিক অ্যাসিড (Uronic acid) আমাদের দে’হের কোষ ডিটক্সিফাইয়ে অবদান রাখে। অ্যালোভেরা জুস পান করার ফলে আমাদের শ’রীর কেবলমাত্র ডিটক্সিফাই-ই হয় না, বরং অ্যালোভেরার জে’লাটিনাস (Gelatinous) উপাদান টক্সিন শোষণ করে শ’রীরের সাথে টক্সিনের সকল উপ’স্থিতি ন’ষ্ট করে দেয়।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!