এবার বেপরোয়া স্ত্রী নিয়ে বিপাকে সেনা সদস্য

এবার বেপরোয়া স্ত্রী নিয়ে বিপাকে সেনা সদস্য

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর অনেক যুবক বিয়ে করে তাদের পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করেন। তবে অনেক সময় এর বিপরীত ঘটনাও ঘটে। বিয়ে করে সেনা সদস্য তার স্ত্রীকে রেখে কর্মস্থলে যান।

আর এই সময় স্ত্রী অন্যের কথায় চলে সংসারে অশান্তি করে থাকে। আর এবার এক সেনা সদস্য তার স্ত্রীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সংবাদে উঠে এসেছে এই সেনা সদস্যের স্ত্রী অনেকটা বে’পরোয়া।

আর এই বেপরোয়া স্ত্রীকে নিয়ে অনেকটা সমস্যার মধ্যে পড়েছেন এই সেনা সদস্য। এবার এই সেনা সদস্য ও তার স্ত্রীর সম্পর্কে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ পেল।

স্ত্রী নি//র্যা//ত//নে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের আমুয়া গ্রামে মৃ’’ত শাহ আলম তালুকদারের পুত্র ল্যান্সঃ কর্পোঃ মোঃ মাকসুদুল্লাহর অ’তিষ্ট হয়ে উঠেছে।

২০০৪ সালে সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে যোগদান করেন মাকছুদুল্লাহ। চাকরি থেকে বিবাহের আগ পর্যন্ত পরিবার পরিজন নিয়ে খুব সুখে শান্তিতেই দিন কাটাচ্ছিল।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখ পাশ্ববর্তী জেলা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালীর পাতাকাটা গ্রামের মোঃ শাহ আলম হাওলাদারের কন্যা শাহনাজ আক্তার সেতুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তানের বাবা মাকছুদুল্লাহ।

বিবাহের পর থেকেই শুরু হয় দাম্পত্য জীবনে অশান্তির ঝ’’ড়। স্ত্রীর অতিরিক্ত লোভ ও প’র’কী’য়া’র কারণে অ’তিষ্ট হয়ে ওঠে সেনা সদস্য মাকসুদের জীবন।

বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ ও চাকরি হা’রানোর ভ’’য়ে কখনোই প্রতিবাদ করেননি মাকছুদ। স্ত্রী দিন দিন আরো বে’পরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুবার সেনা ক্যাম্পে মাকছুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন স্ত্রী। সেখান থেকেও মাকছুদ দোষী প্রমাণ না হওয়ায় আরো বে’পরোয়া হয়ে ওঠেন স্ত্রী। এক সপ্তাহের ছুটি পেয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে মাকসুদ বাড়িতে আসলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে অহেতুক ঝ’গ’ড়া’য় লিপ্ত হন স্ত্রী শাহনাজ।

গত সোমবার দুপুর ১২.৩০টার দিকে দেবরের মা’থা’য় কাঁ’চে’র পানির গ্লা’স ছুঁড়ে মা’’রে শাহনাজ। এতে দেবর ওলিউল্লাহর বাম চোখের পা’শ কে’/’টে গিয়ে প্র’চ’ন্ড র//ক্ত//ক্ষ//র//ণ শু’রু হয়। স্থানীয় লোকজন কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (আমুয়া) হাসপাতালে ভর্তি করান। পরক্ষণে ঘটনা বেগতিক দেখে স্ত্রী শাহানাজ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পথিমধ্যে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে ঘরে ফেরানোর চেষ্টা করেন তার স্বামী। এসময় তিনি জ্ঞা’’ন হা’’রা’’নো’’র ভা’ন করে মাটিতে লু’টি’য়ে পড়েন। এ অবস্থায় স্বামী মাকসুদ ও এলাকার লোকজন পাশ্ববর্তী একটি বাড়িতে নিয়ে চোখে মু’খে পানির ঝাপসা দিলে তিনি জ্ঞা’’ন ফিরে পায়।

এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে শাহানাজের বাবা ও মা এসে উপস্থিত হয়ে স্বামীর বাড়ি গিয়ে ঘরের ফ্রিজ, খাটসহ অন্যান্য মালামাল স্ত্রীর বাবার বাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী তালুকদার ও কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি উপস্থিত হওয়ায় মালামাল নিতে না পেরে পুনরায় শাহনাজ অ’’জ্ঞা’’ন হয়ে পড়েন। তাকে নিয়ে স্থানীয় কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (আমুয়া) হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকাল ৫.১০ টায় প্রাথমিক চিকিৎসা করে জ্ঞান ফিরে পেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার জবানবন্দী নেন। জবান বন্দিতে স্ত্রী শাহানাজ উল্লেখ করেন তার মে’রুদন্ডে ও বু’কে ব্যাথা এবং তিনি দুপুরে খাবারও খাননি বলে জানান।

কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, তেমন কোন জটিল সমস্যা না, অতিরিক্ত জেদ, রাগ ও গ্যাসের সমস্যার কারণে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে শাহানাজ ও তার বাবা মা’’র কাছে মা’র’ধ’রে’র বিষয় জানতে চাইলে তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

শাহানাজের দেবর মোঃ ওয়ালিউল্লাহ হাসপাতালের বেডে শুয়ে জানান, ভাবী শাহানাজের বেপরোয়া জীবন যাপনে বাধা দেওয়ার কারণে তিনি ক্ষি’প্ত হয়ে কাঁ’’চে’’র গ্লাস আমার মাথা লক্ষ্য করে মা’রলে গ্লাসটি বাম চোখের পাশে পড়ে। তবে আল্লাহর রহমতে একটুর জন্য চোখটি বেঁ’চে যায়।

শাহানাজের শ্বাশুড়ি তাসলিমা বেগম বলেন, দু’দিন হলো বাড়িতে আসছে। আমাকে আমার ছেলে কোন টাকা-পয়সা দিলেই শাহানাজ অশান্তি করে। এ বিষয়ে যশোর সেনানিবাসে থাকাকালীন আমার পুত্রের সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমাকে ডাকা হয়। সবকিছু শুনে তারা কোন মন্তব্য না করে, কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বুঝিয়ে সংসার করার পরামর্শ প্রদান করেন। আমরা গরীব মানুষ। আমার ছেলের চাকরি চলে যাবে বিধায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোন প্রতিবাদ করি না। বিবাহের পর থেকেই আমার পুত্র বধু আমার সংসারে ছিল না। সে আমার ছেলের সাথেই থাকে।

এ বিষয়ে শাহানাজের স্বামী মোঃ মাকসুদুল্লাহ বলেন, বিবাহের পর থেকেই আমার স্ত্রী বেপরোয়া চলা ফেরা করে। সে একাধিক পরকীয়ায় লিপ্ত। এ ব্যাপারে আমি একাধিক প্রমাণ পেলেও কোন প্রতিবাদ করতে পারি না। প্রতিবাদ করলে আমার চাকরি থাকবে না বলিয়া হুমকি দেয়। আমার স্ত্রী একাধিকবার কর্তব্যরত সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করেন। অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে আমার সিনিয়র সেনা কর্মকর্তরা বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করার পরামর্শ দেন। আমি তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সংসার করে আসছি। আমার মাকে কোন টাকা পয়সা দিতে দিবে না,

সেটাও মেনে নিছি। আমি গত ২৪ ফেব্রুয়ারী বিকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে আমার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে যাই। ২৬ ফেব্রুয়ারী স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে নিয়া আমার বাড়িতে আসি। বাড়িতে আসার পর থেকেই শুধু শুধু ঝগড়া করে আসছে আমার স্ত্রী। আমার সেজ ভাই মোঃ ওয়ালিউল্লাহ গত সোমবার আমার স্ত্রীকে ভ’দ্রভাবে চলার অনুরোধ করলে তা’র মা’’থা’’য় একটি গ্লা’’স ছু’’ড়ে মা’’’রে।
তিনি আরও বলেন পুরুষের কথার কোন মূল্য নাই। নারী চাইলেই মামলা করতে পারে। এই নি//র্যা//ত//ন থেকে পরিত্রান না পেলে নিজেকে শে’’ষ করা ছাড়া কোন পথ নেই বলেও জানান তিনি। সূত্র:bangladeshtoday.net

এদিকে, এই সেনা সদস্যের পরিবার ও তার স্ত্রীর পরিবার এই সকল ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করে চলেছে। আর এই সকল ঘটনা নিয়ে বর্তমানে সেনা সদস্যের এলাকায় নানা রকম আলোচনা চলছে। তবে সেনা সদস্যের পরিবার থেকেই তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশি অভিযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনা সদস্যের স্ত্রীর পরিবার থেকেও কিছু অভিযোগ তোলা হয়। সেনা সদস্য ও তার স্ত্রীর মধ্যে যে সকল সমস্যা লেগে রয়েছে তার সমাধান দেখতে চায় দুই পরিবার।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!