মানুষের ভাগ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত

মানুষের ভাগ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত

👉মানুষের ভাগ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত👈
যথা: ১. কেউ জানে না যে, তার ব্যাপারে কী লেখা হয়েছে। যখন জানা নেই, তখন তো সৎকর্ম ও নেক আমলই করা উচিত। যাতে পরিণতি উত্তম ও কল্যাণকর হয়। ২. এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে, তাকদির যেখানে লেখা হয়েছে,
সেখানে তার কারণ ও উপকরণও লেখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তাকদিরে যদি লেখা থাকে, অমুক ব্যক্তি জান্নাতি হবে, তাহলে অবশ্যই এ কথাও লেখা হয়েছে, ঈমান এবং সৎ আমলের জন্যই যে জান্নাতি হবে। ৩. বাস্তব জগতের সর্বত্রই পরিলক্ষিত হয়, ‘তাকদিরে যা লেখা আছে তা-ই পাবে।’ এ চিন্তায় বিভোর হয়ে কেউ দুনিয়ার জীবনে ধন-সম্পদ,
মান-ইজ্জত, রুটি-রুজি লাভের উপকরণ আহরণের চেষ্টা ও সাধনা পরিত্যাগ করবে না। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে আখেরাতের পুরস্কার লাভের ব্যাপারেও চেষ্টা, সাধনা এবং উপকরণ লাভের জন্য মেহনত পরিত্যাগ করা মোটেই উচিত নয়। এ ব্যাপারে হাদিস শরীফে সুস্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ক. হযরত আলী রা. বলেন, একদা আমরা পিয়ারা নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে ছিলাম। তিনি শাহাদু অঙ্গুলি দ্বারা মাটিতে দাগ কাটছিলেন। আকস্মাৎ আকাশের দিকে মস্তক উত্তোলন করে বললেন, তোমাদের প্রত্যেকের জান্নাত বা জাহান্নামের ঠিকানা নির্ধারিত বা লিখিত হয়ে আছে।
তখন সাহাবিরা আরজ করলেন, তবে কি আমরা এর ওপর ভরসা করে বসে থাকব? হে আল্লাহর রাসূল। তিনি উত্তর দিলেন, না। বরং তোমরা আমল করতে থাকো। যার জন্য যা সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য তাই সহজ করা হয়েছে। (জামে তিরমিজি: খন্ড ২, পৃ. ৪৮০-৪৮১)।
খ. আল্লাহপাকের কাযা ও কদরকে দলিল ও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে আল্লাহপাকের আদেশ, নিষেধ ও সৎকর্ম পরিত্যাগ করা আমাদের জন্য মোটেই বৈধ নয়। বরং আমাদের জন্য এ কথা অবগণ হওয়া ও বিশ্বাস করা ওয়াজিব যে, আল্লাহপাক কিতাব নাজিল করে এবং নবী-রাসূল প্রেরণ করে আমাদের ওপর তার হুজ্জত ও দলিল পরিপ‚র্ণ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত সুসংবাদ দানকারী ও সুর্ককারী রাসূল প্রেরণ করেছেন, যাতে করে রাসূল প্রেরণের পর আল্লাহর ওপর অপবাদ আরোপের কোনো সুযোগ মানুষের না থাকে।’ (সূরা নিসা: আয়াত ১৬৫
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই: মাঝে মধ্যে তোমাদেরকে বিপদের আতঙ্ক, ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে, সম্পদ, জীবন, পণ্য-ফল-ফসল হারানোর মধ্য দিয়ে। আর যারা কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য-নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করে, তাদেরকে সুখবর দাও। [আল-বাক্বারাহ ১৫৫]
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই
আল্লাহ تعالى শুরু করছেন: وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍ — আল্লাহ تعالى আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষা নেবেনই, নেবেন। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আরবিতে দুই বার জোর দিয়ে এ কথা বলেছেন। কারো বেলায় সেই পরীক্ষা হয়তো চাকরি হারিয়ে ফেলে অভাবে, কষ্টে জীবন পার করা। কারো বেলায় হয়তো বাবা-মা, স্বামী, স্ত্রী, সন্তানদের জটিল অসুখের চিকিৎসায় দিনরাত সংগ্রাম করা। কারো বেলায় হয়তো নিজেরই নানা ধরনের জটিল অসুখ। কারো বেলায় আবার জমি-জমা, সম্পত্তি নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সাথে শত্রুতা, শ্বশুর-শাশুড়ির অত্যাচার, দুশ্চরিত্র স্বামী, পরপুরুষে আসক্ত স্ত্রী, ড্রাগে আসক্ত ছেলে, পরিবারের মুখে কালিমা লেপে দেওয়া মেয়ে —কোনো না কোনো সমস্যায় আমরা পড়বোই। এই সমস্যাগুলো হচ্ছে আমাদের জন্য পরীক্ষা।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!