৬-৮, হাজার টাকার বিনিময়ে বি`ছা`নায় যেতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে

৬-৮, হাজার টাকার বিনিময়ে বি`ছা`নায় যেতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে

তমা ইসলাম (ছদ্মনাম)। রা’জধানীর মিরপুরের বা’সিন্দা এই শি’ক্ষার্থী দেশের নামকরা একটি বি’শ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের স্নাতকের ছাত্রী।তিনি বর্তমা’নে যৌ’.’ন ব্য’ব’সায়ের সা’থে জ’ড়িত।

নিজের জীবনের নানান ধাপে ধাপে অনেক ধরনের নি’র্যাতন সয়ে আজ তাকে এ পথে নামতে হয়েছে।আর বাকি পাঁচজ’নের মতোই ছিলো তমা’র জীবন। কিন্তু তার বা’বার ব্য’ব’সায়ে ক্ষ’তি হওয়ার প’র উ’চ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো তমা’র জীবনে

নেমে আসে কালো ছায়া। তমা’র বা’বার রা’জধানীর মিরপুরে একটি কাপড়ের দোকান ছিলো। কিন্তু তার বা’বার ব্য’ব’সায়ীক পা’র্টনার তাদের সা’থে প্র’তারণা ক’রে তমা’র প’রিবারকে নিঃস্ব ক’রে। ওই ব্য’ক্তি হা’তিয়ে নেন

তমাদের ২৫ লক্ষ টাকা।স্নাতকে কয়েকটি বি’শ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার প’রেও ভর্তি হওয়ার মতো প’র্যাপ্ত অর্থ ছিলো না তমা’র। তার বা’বাও তাদের প’রিবারের জ’ন্য তেমন কিছু করতে পারছিলেন না। অ’ব’স্থা ছিলো অনেকটাই বেগ’তিক।

তমা’র প’রিবারের সদস্যদের দিনের প’র দিন আধ পেটা, না খেয়ে পার করতে হতো। চার ভাই-বোনের মধ্যে তমাই স’বার বড়। তিনি তার প’রিবারের অ’ব’স্থা আর নিজের পড়াশোনার জ’ন্য চাকরির সি’দ্ধান্ত নেন। কয়েকটি চাকরির ওয়েবসাইট ঘুরে বিভিন্ন

প্র’তিষ্ঠানে সিভি দেন তমা। কিন্তু দিনের প’র দিন পার হলেও তিনি কোথাও ডাক পান না।

এ অ’ব’স্থায় মা’নসিকভাবে অনেকটাই ভে’ঙে পড়েন সদ্য উ’চ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো এই ছাত্রী। মা’সখানেক প’র হঠাৎই একটা ক’ল আসে তমা’র কাছে।

একটি প্র’তিষ্ঠানে তমাকে চাকরির ই’ন্টারভিউয়ের জ’ন্য ডাকা হয়। তমা স’ময় মতো গুলশানের ওই অ’ফিসে হাজির হন। তমাকে তখন সা’ধা’রণ কিছু প্রশ্নের প’র জা’নানো হয় এটা একটি বিউটি পার্লারের কাজ। স্পা করা’তে হবে না’রীদের।

তমা দী’র্ঘ’দি’ন চাকরি খুঁ’জেও কো’নো উপায়ন্ত না পেয়ে তাদের প্রস্তাবে রা’জি হন। ভাব’লেন তাও একটা কাজ তো পেয়েছেন। ওইদিনের মতো তমাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় প’রবর্তী তারিখ দিয়ে। জা’নানো হয় প’রবর্তী দিন ওই অ’ফিসের ‘বস’ তমা’র ই’ন্টারভিউ নিবেন। তিনি ফাই’নাল ক’র’লেই তমা’র চাকরি হবে। প’রবর্তী তারিখে তমা স’ময় মতো ওই লো’কের দেওয়া ঠিকানায় উপস্থিত হন।

প’রে তাকে ‘হো’টে’ল রেডিসনের’ একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তমা দেখতে পান এক লো’ক সোফায় বসে আসেন। তমা’র যেহেতু চাকরির পূর্ব অ’ভিজ্ঞতা ছিলো না তাই তিনি তেমন কিছুই আঁচ করতে পারেননি যে, তার সা’থে কী ঘ’টতে যা’চ্ছে! এরপ’র তমা যেই লো’কের সা’থে হো’টে’ল প’র্যন্ত গেলেন তিনি রুমে থাকা লো’কের কাছে তমাকে রে’খে ‘কানে কানে’ ব’লে যান ই’নি আমাদের ‘বস’।

তাকে স’ন্তুষ্ট করতে পারলেই চাকরি কনফার্ম। সদ্য উ’চ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার করা তমা তখনও কিছু বুঝতে পারেননি। এরপ’র রুমে ওই লো’ক জো’র জবরদস্তি ক’রে তমাকে ‘’ ক’রেন। শুরু হয় তমা’র জীবনের নতুন অধ্যায়। তমা তার জীবনের এই অনাকাঙিক্ষত ঘ’টনা কাউকে বলতে পারেননি। তার প’রিবারের লো’কের পাশে তখন তার দাঁড়ানো দরকার ছিলো-

এর ও’প’রে তার বি’শ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ছোট ছোট তিনটা ভাই-বোনের দিকে তাকিয়ে তমা সেদিন প্র’তিবাদ করতে পারেননি। কিন্তু তমা’র জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় সেখান থেকেই। তমা সেদিনকার মতো বা’ড়িতে ফিরে আসেন এবং আ’ত্ম চেষ্টা ক’রেন। কিন্তু প’রিবারের ক’থা ভেবে অ’ন্ধকার জগতের পথ বেছে নেন তমা। তমা বা’ড়ি ফেরার দুই-একদিন প’র ওই লো’কেরা তার সা’থে আবার যো’গাযোগ ক’রেন।

জা’নান, তমা চাইলে তারা প্র’তিমা’সে তাকে তিনটা কাজ দিবে। এর জ’ন্য তমাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে। তমাও রা’জি হয়ে যান তাদের শর্তে। তমা’র দা’বি, তার সামনে অন্য আর কো’নো উপায় ছিলো না! ‘কিছুদিন যাওয়ার প’র অ’ন্ধকার জগতে কাজ ক’রে এমন একটা গ্রুপে এ্যাড হলাম। এই গ্রুপের যিনি এ্যাডমিন ছিলেন তিনি কারো কাছ থেকে কোন বিনিময় নেয় না।

তিনি কাজ যো’গাড় ক’রে দেয়। এভাবেই অ’ন্ধকার জগতে প্র’বেশ করি। একস’ময় আমি বুঝতে পা’রি কিভাবে যো’গাযোগ করতে হয়। কিভাবে নিজেকে হা’ইড রাখতে হয়। এ কাজ করতে গেলে কখনো নিজেকে অ’প’রাধী মনে হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ব’লেন, স’ব স’ময় মনে হয়, আবার মাঝে মাঝে মনে হয় না। টাকা পয়সা আর প্যাকেজের বি’ষয় জানতে চাইলে তিনি ব’লেন,

টাকা পয়সার বি’ষয় হচ্ছে যারা আসে তাদের অ’ব’স্থা বুঝে। যার অর্থনৈতিক অ’ব’স্থা একটু ভা’লো সে হয়তো একটু বেশি দিচ্ছে। কিভাবে যো’গাযোগ হয় জানতে চাইলে তিনি ব’লেন, গ্রুপে পোস্ট দেই, কন্টাক্টটা ই’নবক্সে হয়। তার প’র ফোনের মাধ্যমে কন্টাক্ট করা হয়। যায়গাটা কিভাবে নির্ধা’রণ করা হয় এ বি’ষয়ে তিনি ব’লেন, আমাদের গ্রুপের অনেকে আ’ছে যারা প’রিবার স’হ থাকে।

ওখানে যাওয়া হয়, কিন্তু যায়গা গুলো অনেক নি’রাপত্তার। কেউ ঝামেলা করবে এমন কোন স’মস্যা নেই। গেস্ট হিসেবে যাই। আ’সার স’ময় আমা’র যা আয় হয়, এখান থেকে দুই বা তিন হাজার তাদের দিয়ে আসতে হয়। এখানে কা’রা আসে জানতে চাইলে তিনি ব’লেন, বেশির ভাগ হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবী, বে-সরকারি চাকরিজীবী আবার অনেক স্টুডেন্টও আসে।

স্টুডেন্টদের কাজ আমি একটু কম করি। কারন আমি নিজেও একজ’ন স্টুডেন্ট এজ’ন্য তাদের কাজ আমি করি না। বেশির ভাগ ৩৫ বছরের উপ’রে লো’কজ’ন বেশি আসে। এপ’র্যন্ত আ’পনি কতজ’নের সা’থে মিট ক’রেছেন জানতে চাইলে তিনি ব’লেন, ৩৫ থেকে ৪০ জ’নের মতো হবে। ঢাকার ভিতরেই কাজ গুলো করা হয়। ছয় থেকে আট হাজার টাকা কন্টাক্ট হয়।

অনেকে থাকার প’রে ব’লে বুথ থেকে টাকা’টা তুলে দিচ্ছি। দেখা যায় তার আর খোঁ’জ খবর নেই। আবার অনেকে টাকা কম দিয়ে যায়। বলছে প’রবর্তীতে দিব। প’রবর্তীতে অনেকে দিয়ে দেয়, আবার অনেকে দেয় না। আবার অনেকে বাজে ব্যাবহার ক’রে। মনে হয় আম’রা কোন মা’নুষ না। আমাদের সা’থে মা’নুষের আচ’রণ ক’রে না। এটা কোন জীবন হতে পারে কি না জানিনা।

এটা আসলে কোন লাইফ না। আমি চাই এখান থেকে প্র’তিনিয়ত বের হতে। আমি চাই আরও পাঁচটা মা’নুষ যেভাবে থাকে আমিও সেভাবে থাকি। এই শি’ক্ষার্থী ব’লেন, আমি এ জীবন চাই না। আমি এখান থেকে বের হতে চাই। লেখাপড়া শেষ ক’রে চাকরি করতে চাই। আমি জানিনা এখান থেকে স’মাজ আমাকে কিভাবে বের করবে, কিন্তু আমি এখান থেকে বের হতে চাই। উ’ল্লেখ্য, স’ম্প্র’তি দেশের বেসরকারি স’ময় টেলিভিশন-এ সংবাদটি প্র’কা’শিত করা হয়। সেই আলো’কেই আমাদের এই প্র’তিবেদনটি করা হয়েছে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!