লোকলজ্জায় সন্তানকে ধানক্ষেতে ফেলে যায় মা!

লোকলজ্জায় সন্তানকে ধানক্ষেতে ফেলে যায় মা!

ধানক্ষেত থেকে কুড়িয়ে পাওয়া আলোচিত সেই নবজাতক শিশুটির মায়ের সন্ধান মিলেছে। গত কয়েক দিন থেকে ওই এলাকায় সরেজমিনে তদন্ত করে নবজাতকের স্বজনদের পরিচয় বের করতে সক্ষম হয়েছে বোদা থানা পুলিশ।

তবে নবজাতককে জন্ম দেয়া ওই কিশোরী (১৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। এদিকে ওই কিশোরীর পক্ষে বাবা বাদী হয়ে শ্রী

ধনেশ (২২) ও তার বাবা মায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হুমকি প্রদানের মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ধনেশ জেলার আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের গোপালজোত এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শ্রী ধনেশ ওই কিশোরীর আত্মীয়তার সূত্রে তাদের বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত করতো। স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া ওই কিশোরীকে ধনেশ দেড় বছর আগে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।

এরপরে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১০ মাস আগে ধর্ষণ করেন। কিশোরীর বাবা মায়ের অজান্তে প্রায় সময় তাকে ধর্ষণ করতো ধনেশ।

এক পর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সে বিষয়টি ধনেশকে জানায়। ধনেশ ক্ষিপ্ত হয়ে এ বিষয়ে কাউকে জানালে ওই কিশোরীকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে এ বিষয়ে ওই কিশোরী তার পরিবারের কাছে সব গোপন করে ধনেশের পরিবারকে জানায়। এতে ধনেশের পরিবারও এ বিষয়ে কাউকে না জানাতে ওই কিশোরীকে হুমকি প্রদান করে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত তিনটায় ওই কিশোরীর প্রসব বেদনা উঠলে বাড়ির পাশের একটি ধান ক্ষেতের আইলে সে একটি কন্যাসন্তান প্রসব করে। এসময় ওই কিশোরী লোক লজ্জার ভয়ে নবজাতককে সেখানে রেখে পালিয়ে আসে।’

পরে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন নবজাতককে উদ্ধার করে বোদা থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করনে। খবর পেয়ে তারা ওই নবজাতককে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের স্ক্যানু বিভাগে ভর্তি করে।

ঘটনার পর থেকেই বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে রহস্য উদ্ঘাটন করতে তদন্তে নামে পুলিশ। গত শনিবার রাতে ওই নবজাতকের পরিবারের সন্ধান মেলে। এরপর ওই কিশোরী পুলিশকে সব ঘটনা খুলে বলেন।এদিকে, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা ওই নবজাতককে দত্তক নিতে অনেকে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই নবজাতকের পরিবারের সন্ধান মেলায় তাকে হস্তান্তরের ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ চৌধুরী।

তিনি জানান, ওই কিশোরীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে হাজির করা হয়েছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। কিশোরীর পরিবার ওই নবজাতককে নিতে চাইলে আদালতের সিদ্ধান্তক্রমে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া মামলার আসামিদের ধরতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!