স’ন্তান কথা শুনে না? কোনও নিয়মই মা’নতে চায় না? শা’সন না করেই স’মাধান করুন এভাবে!

স’ন্তান কথা শুনে না? কোনও নিয়মই মা’নতে চায় না? শা’সন না করেই স’মাধান করুন এভাবে!

শৈশব থেকেই যে সব অভ্যাসে রপ্ত হয়ে ওঠে আপনার সন্তান, সে সবের রেশ থেকে যায় বড় হয়েও। অনেক অভিভাবক চান, শি’শুকে ছোট থেকেই নিয়মানুবর্তী করে তুলতে।

কিন্তু বয়সের ধ’র্ম মেনেই শি’শুরা খুব একটা নিয়মের ধার ধারে না। এর জন্য শাসনও কম জোটে না তাদের। কিন্তু কিছু কৌশল জানলে ধমক-মা’রধ’র না করেও শি’শুকে নিয়মানুবর্তী করে তোলা যায়।

কোনও শি’শুর পক্ষেই নিজে নিজে ঠিক-ভুলের তফাত করা সম্ভব নয়।তাই ছোট থেকেই তাকে ঠিক-ভুলের ফারাক ক’রতে শেখান। কোন কাজ কখন ক’রতে হয়, কোন কাজ পরে করলেও চলে এগুলো স’ম্পর্কে ধারণা তৈরি করে দিন ছোট থেকেই।

কেবল কাজে’র সময় স’ম্পর্কে ধারণা তৈরি করাই নয়, শি’শুকে বুঝতে দিন সময়ের কাজ সময়ে না করলে কী কী স’মস্যা হতে পারে। সে সব স’মস্যার সমাধান করে দিলেও শি’শুকে বোঝান কেন প্রতিটি কাজ নিয়ম মেনে সময় অনুযায়ী ক’রতে হয়। তা হলে ভবিষ্যতে কোনও নিয়ম ভা’ঙার আগে শি’শুও স’চেতন থাকবে।

সন্তান কোনও কাজ নিয়ম মেনে করলে তার প্রশংসা করুন, উৎসাহ দিন। শি’শু তার অভিভাবকদের কাছ থেকেই প্রশংসা পেতে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে। এতে সে পরবর্তী কালে আরও অনেক কাজই এমন দক্ষ’তায় ক’রতে চায়। ফলে নিয়মানুবর্তী হওয়ার স’ঙ্গে তার দক্ষ’তাও বাড়ে।

মা’রধ’র বা শাসন একেবারেই নয়। বরং এতে ফল বিপরীত হতে পারে। অতিরি’ক্ত শাসনে শি’শু মনে মনে হ’তাশ হয়ে পড়ে। তার চার পাশ স’ম্পর্কেও খা’রাপ ধারণা গড়ে ওঠে।

আত্মবিশ্বা’স তো হারায়ই, স’ঙ্গে নিজে’র অভিভাবকের প্রতিও এক ভীতির জ’ন্ম হয় তার মনে। বয়স বাড়ার স’ঙ্গে স’ঙ্গে এই ভ’য় উদ্ধত হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।

দিনে কত ক্ষণ সময় দিচ্ছেন শি’শুকে? তার যে কোনও ভাল গুণ বিকাশের ক্ষেত্রে এই দিকটি অত্যন্ত জ’রুরি। শি’শুর স্কুল-ব’ন্ধুবান্ধব-নানা ব্যস্ততা ইত্যাদি স’ম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন। দিনের মধ্যে কিছুটা সময় কেবল শি’শুর জন্যই বরাদ্দ রাকুন। আপনার স’ঙ্গে শি’শুর স’ম্পর্ক যত ব’ন্ধুত্বপূর্ণ হবে ততই সে অভিভাবকদের বাধ্য হবে এবং নতুন কিছু শিখতে তৎপর হবে।

নিয়মানুবর্তী করে তুলতে গলে ছোট থেকেই কিছু কিছু কাজে’র দায়িত্ব শি’শুকে দিতে হবে। এমন কিছু কাজ সংসারেও থাকে, যা এক জন শি’শুও করে ফেলতে পারে অনায়াসে। তেমন কিছু সহজ ও হালকা কাজে’র দায়িত্ব তার উপর দিন। তাতে ও সে এক দিকে যেমন দায়িত্ববান হতে শিখবে, তার স’ঙ্গে সময়ের কাজ সময়ে করে ফেলতেও সচেষ্ট থাকবে।

শি’শুর সামনে কিন্তু তার অভিভাবকরাই সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তাই নিজে’রাও তার সামনে এমন কিছু করবেন না, যাতে সেখানে নিয়ম ভা’ঙার অনুশীলন প্রকা’শ্যে আসে। বরং সন্তানকেও বুঝতে দিন যে তার অভিভাবকরাও যথেষ্ট নিয়মানুবর্তী। এই দৃষ্টান্ত সামনে এলে সে নিজেও এমন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে চাইবে নিজেকে।

কোনও ভাবেই স’মস্যা না মিটলে কিংবা বহু চেষ্টাতেও শি’শুকে নিয়মানুবর্তী না করে তুলতে পারলে বিশেষজ্ঞের পরাম’র্শ নিন। বিহেভিয়ার থেরাপিস্ট ও মনোস্তত্ত্ববিদের সাহায্যে শি’শুর মনের কোণের স’মস্যাগুলো অনুধাবন করুন। সেই অনুযায়ী তাকে গড়ে তুলুন। এটি তার নিয়মানুবর্তী হওয়ার পথে আরও কিছুটা এগিয়ে দেবে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!