হাত-পা ঘামছে, মু’ক্তি মিলবে ঘরোয়া উপায়ে!

হাত-পা ঘামছে, মু’ক্তি মিলবে ঘরোয়া উপায়ে!

সাধারণত হাত-পা অনেকেই ঘামে। তবে কেন ঘামে তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে অনেকের বংশগতভাবে এ রো’গ থাকা, শ’রীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতা, মা’নসিক চা’প, দু’শ্চিন্তা প্রভৃতি কারণে হাত-পা ঘামতে পারে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্ম ও যৌ’ন রো’গ বিভাগের প্রধান রাশেদ খান বলেন, হাত-পা ঘামা’র সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বের করা যায়নি। তবে বংশগতভাবে এ রো’গ থাকা, শা’রীরিক কিছু স’মস্যা, শ’রীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতা, মা’নসিক চা’প, দু’শ্চিন্তা প্রভৃতি কারণে হতে পারে।

হাত-পা ঘামা’র কারণ: হাত-পা ঘামা’র প্রাথমিক কারণ হিসেবে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে অতিরি’ক্ত স্নায়বিক উত্তেজনার কারণে ঘাম হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরও নানা কারণে হাত-পা ঘেমে থাকে। যেমন পারকিনসন্স ডিজিজ, থাইরয়েডে স’মস্যা, ডায়াবেটিস, জ্বর, শ’রীরে গ্লুকোজে’র স্বল্পতা, মেনোপোজে’র পর প্রভৃতি।

অনেক সময় শ’রীরে ভিটামিনের অভাব থাকলে হাত-পা অতিরি’ক্ত ঘামতে পারে। আবার মা’নসিক চা’প, দু’শ্চিন্তা ও জে’নেটিক কারণে হাত-পা ঘামে। এই সব স’মস্যা থেকে মু’ক্তি দিতে পারে ঘরোয়া কিছু চিকিৎ’সা। চলুন তবে জে’নে নায়া যাক ঘরোয়া উপায় স’ম্পর্কে-

বেইকিং সোডা: রয়েছে ক্ষারীয় উপাদান। এটি হাত-পা ঘামা’র স’মস্যা দূ’র ক’রতে কা’র্যকর ভূমিকা পা’লন করে। গরম পানিতে দুতিন টেবিল চামচ বেইকিং সোডা মিশিয়ে তাতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাত-পা ডুবিয়ে রাখু’ন। পানির ভেতরে সোডা দিয়ে হাত-পা ঘষতে থাকুন। পরে হাত-পা মুছে ফেলুন।

গোলাপ জল: যেকোনো দোকান থেকে প্রাকৃতিক গোলাপ জল কিনে নিতে পারেন অথবা নিজে গোলাপের পাপড়ি ফুটিয়ে গোলাপ জল তৈরি করে ছেঁকে নিন। তুলার সাহায্যে গোলাপ জল নিয়ে হাত ও পায়ের তালুতে লা’গান। এটি ত্বকে শীতল প্র’ভাব সৃষ্টি করে।

ঠান্ডা পানি: প্রতিদিন ঠান্ডা পানিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাত-পা ডুবিয়ে রাখু’ন। এই স’মস্যার জন্য খুব ভালো কাজ করে।

ভুট্টার গুঁড়া বা ট্যালকম পাউডার: দুটাই ত্বক রাখে শুষ্ক। হাত ও পায়ে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করুন। চেষ্টা করুন সুগন্ধি ছাড়া পাউডার ব্যবহার ক’রতে। কারণ এটি বেশি ভালো ও প্রাকৃতিক। তাছাড়া গন্ধ ছাড়া পাউডার ঘন ঘন ব্যবহারের জন্য নি’রাপদ।

লেবু: হাত-পা ঘামা’র স’মস্যা দূ’র ক’রতে তিনভাবে কাজ করে। লেবু ও কমলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে নিন। এই পাউডার হাত ও পায়ের তালুতে লা’গান। এই গুঁড়া বায়ু রুদ্ধ পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এলকোহলের স’ঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে হাতে ঘষুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। লবণ ও লেবুর রস একস’ঙ্গে মিশিয়ে হাতে ঘষুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

টি-ব্যাগ: লিকার চায়ের অ্যান্টিপার্সপিরান্ট উপাদান হাত-পা ঘামা’র স’মস্যায় কাজে লাগে। প্রতিদিন ঘর্মাক্ত হাতে টি-ব্যাগ নিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন। এছাড়া তিন-চারটি টি-ব্যাগ গরম পানিতে দিয়ে তাতে ৩০ মিনিট হাত ও পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার: হাত ও পায়ে এই ভিনিগার লা’গিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ছিদ্রকে দৃঢ় রাখে ফলে ঘাম কম হয়।

চন্দন গুঁড়া: প্রাচীনকালে মানুষ চন্দন কাঠের মি’শ্রণ ব্যবহার করত কপাল ঠান্ডা রাখার জন্য। চন্দনের গুঁড়া ঘাম কমায় বলে বেশ পরিচিত। তাই হাত-পায়ের ঘাম কমাতে এটি বেশ কা’র্যকর। লেবুর রস বা গোলাপ জলের স’ঙ্গে চন্দন মিশিয়ে ঘামের উপর লা’গান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন।

টমেটোর রস: প্রতিদিন পান করুন অথবা হাত-পা ভিজিয়ে রাখু’ন। টমেটোর রসে আছে সোডিয়াম, যা হাত পায়ের তালু শুষ্ক রাখে।

আলু: কয়েক টুকরা আলু ঘর্মাক্ত হাত ও পায়ে ঘষুন। আলুর রস শুকিয়ে গেলে তা ধুয়ে ফেলুন।

মনে রাখবেন:
> অতিরি’ক্ত মসলাদার ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

> ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় পরিহার করুন।

> পে’ট্রোলিয়াম জে’লি সমৃদ্ধ ক্রিম হাত-পায়ে ব্যবহার করবেন না।

> মোজা কখনও না ধুয়ে পরবেন না।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!