”শিশুটির বাবা-মায়ের পরিচয় খুঁজছে — পুলিশ”

”শিশুটির বাবা-মায়ের পরিচয় খুঁজছে — পুলিশ”

নয় মাস গর্ভের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকার পর, যাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেয় পৃথিবীর আলো-বাতাস; সেই নবজাতকের ঠাঁই কেন পরিত্যক্ত জমিতে, ডাস্টবিন কিংবা রাস্তার আনাচে-কানাচে?

জন্মই যদি হয় তার আজন্ম পাপ- তাহলে দায় কার? বাবা, মা নাকি অন্য পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার! এমনসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারছে না সমাজকর্মী,

অপরাধ বিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরাও। প্রায়ই দেশব্যাপী উদ্ধার করা হচ্ছে ডাস্টবিনে পড়া নবজাতককে। উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে এমন ঘটনার স্বাক্ষী হয় কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ভৈষেরকোট গ্রামবাসী। ওই গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত জমিতে পড়ে ছিলো নবজাতকটি।

এ সময় উৎসুক জনতার ভীড় ঠেলে এগিয়ে আসেন ওই গ্রামের গৃহবধূ সালমা আক্তার। তখন দেবিদ্বার থানার পুলিশকে খবর দিলে ওই অসুস্থ্য ও পোকামাকড়ের কামড়ে আক্রান্ত ক্ষতবিক্ষত শিশুটিকে পরম মমতায় কোলে তুলে নেন ওসি আরিফুর রহমান।

তখন দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, শিশুটির পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

তার বৈধ অভিভাবকের সন্ধান পেতে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়েছি।ইদানিং পত্রিকা পাতায় দেখা যায়,দেশের বিভিন্ন পরিত্যক্ত স্থানে ফুটপাথ ও ঝোপঝাড় থেকে নবজাতককে উদ্ধার করছে পুলিশ।আবার নবজাতক পাওয়া যাচ্ছে ট্রেনের বগিতেও। মিলছে বিমানবন্দরের টয়লেটেও। এমনসব স্থানই যেন অনাকাক্সিক্ষত নবাজাতকের ঠিকানায় পরিণত হচ্ছে।

কখনও তাদের হৃদয়বিদারক কান্নার সুর কিংবা কুকুরের ঘেউ ঘেউ নজরে আসে মানুষ-অমানুষের কানে। উদ্ধারের পর বেরিয়ে আসে প্রতিটি নবজাতককে এভাবে ফেলে যাওয়ার নেপথ্যে বিচিত্র সব কাহিনী। এ ধরনের প্রতিটি শিশুরই রয়েছে করুণ কাহিনী। এদের জন্য দায়ী কারা?সাধারণত অনৈতিক সম্পর্কের ফসল এসব শিশু।

কিন্তু উচ্চবিত্তের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের উদাহরণ থাকলেও নিম্নবিত্ত এবং ভবঘুরে মানুষদের সেই সতর্কতা নেই। সাধারণত কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে পরিবার অভিযোগ নিয়ে হাজির হয় পুলিশের কাছে।

কিন্তু যখন পরিবারই নিজ সন্তানকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়, তখন অভিযোগ করার কেউ থাকে না। কিন্তু বাস্তব হলেও সত্যি যে এসব নবজাতকের কোনো দোষ নেই। জন্মই যেন তার একমাত্র দোষ। আর জন্মের পরই চলে মৃ’ত্যুর আয়োজন।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!