একে অপরের সাথে গা জড়িয়ে তুমুল লড়াই করছে বিশাল আকারের দুটি কোবরা সাপ!

একে অপরের সাথে গা জড়িয়ে তুমুল লড়াই করছে বিশাল আকারের দুটি কোবরা সাপ!

মনে ভেসে উঠলে শরীরে এবং মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। পুরানে অনেক উপকথায় সর্প জাতির উল্লেখ পাওয়া যায়। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে মহাদেবের গলায়, স্বয়ং বাসুকি নাগ অবস্থান করেন। মহাবিষ্ণু শ্বেত নাগ এর উপর মহা নিদ্রায় শায়িত, এমনকি মা মনসার বাহন হল সাপ, চা নিয়ে রচিত হয়েছে “মনসামঙ্গল”।

সাপ নিয়ে আজও কিছু মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে অনেক কুসংস্কার, আজও মনে করেন সাপের রয়েছে সম্মোহনী ক্ষমতা। সাপ সম্মোহিত করে পশুপাখিদের শিকার করে। কিন্তু কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। বিশেষ করে বড় সাপগুলি রোদ্রে তাদের ত্বক নিয়ে শুয়ে থাকে, তাহলে ত্বকের আঁশগুলি চকচক করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখায়।

সেগুলি দেখি আকৃষ্ট হয়ে অন্যান্য পশুপাখিরা যখন কাছাকাছি যায় তখনই তারা তাদের ধরে এবং গিলে ফেলে। কিন্তু সাপের মত নিরীহ প্রাণী আর হয় না।

শুধুমাত্র আত্মরক্ষা ও শিকারের জন্য সাপ অন্য পশু-পাখিদের উপর আক্রমণ করে। সাপের দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল শুধুমাত্র শ্রবণ শক্তির উপর নির্ভর করেই,

সাপ সবকিছু অনুভব করতে পারে। সাপের neurotoxic এবং cytotoxic এই দুই ধরনের বিষ দেখা যায়। কিছু কিছু সাপ এতই বিষাক্ত হয়, তাদের একবার মাত্র দংশনে মানুষের মৃ-ত্যু ঘটতে পারে।পৃথিবীতে কোটি কোটি সাপের প্রজাতি রয়েছে। তবে সাপ বিষধর কি ভীষণ সেই সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষেরই সঠিক জ্ঞান নেই।

তাই কখনো কোন সাপ লোকালয়ে চলে গেলে অধিকাংশ মানুষই তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন অথবা গুরুতরভাবে আঘাত করে দেন। এই ক্ষেত্রেই বিশেষ কিছু মানুষ যারা সর্প বিশেষজ্ঞ তারা সেইসব সাপকে উদ্ধার করে রক্ষা করেন তাদের বলা হয় সর্প রক্ষক। তারা লোকালয় গিয়ে,

সেই সব সাপেদের রক্ষা করেন এবং তাদের সঠিক জায়গায় ছেড়ে দেন যাতে সাপগুলো নিরাপদে বসবাস করতে পারে। তবে সর্প রক্ষক হতে গেলে চাই দীর্ঘদিনের ট্রেনিং এবং সর্প প্রজাতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান। সাপের মিলনের সময় নাগ নাগিনী একসঙ্গে থাকতে পছন্দ করে।

বিশেষ করে প্রায় সময়ই দেখা যায় নাগ নাগিনী দুজনের পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে আলিঙ্গনবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। চলতি কথায় আমরা একে বলে থাকি “সাপের শঙ্খ লাগা”, অনেকের কাছে এই ঘটনাটি অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। এমনকি অনেকেই এই সময় কাপড় বা গামছা তাদের উপর ফেলে দেন বলা হয় সেগুলি পবিত্র হয়ে যায়।

যদিও বৈজ্ঞানিক মতে, সাপের মিলন নেহাতই অন্যান্য প্রাণীদের মতোই একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, সে ক্ষেত্রে এগুলি নিতান্তই কুসংস্কার। সম্প্রতি ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভিসা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে আলিঙ্গনে আবদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। প্রথমে তাদের দু’জনকেই মিলন রত অবস্থায় রয়েছে,

বলে ভুল হলেও পরবর্তী কালে দেখা যায় তারা দুজনেই একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে চলছে। সবগুলিকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা যথেষ্ট বিষাক্ত একটি সাপ প্রায়, আট ফুটের মতো লম্বা তারা দুজনেই একে অপরের উপর চরম আক্রোশে ছোবল মারছে। তাদের পাশে ঘিরে রয়েছেন মানুষ,

এর মধ্যেই বেশকিছু মানুষ সাহস করে ভিডিওটি করছেন। শেষ পর্যন্ত সাপ দুটি লড়াই করতে করতে অন্যদিকে চলে যায়, শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে কি হয় দেখা যায় নি। ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে একটি অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে। হাজার হাজার মানুষ ভিডিওটি লাইক করেছেন। ভিডিওটি দেখে বেশ শিহরিত হয়ে উঠেছেন সবাই।

বিশেষ করে তাদের মধ্যে এই লড়াই দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন, এর মধ্যে অনেকেই বলেছেন চারিপাশের মানুষদের মধ্যে যদি কাউকে তারা দংশন করে, দিত তাহলে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা হতে পারত, এজন্য তাদের এরকমভাবে ভিডিও করা উচিত হয়নি। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়ে গেছে ভাইরাল।

প্রকৃতির এইসব বিভিন্ন লীলা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের চোখের সামনে হাতের মধ্যে মোবাইলে আমরা দেখতে পাই। পৃথিবীর দিকে দিকে ঘটে চলেছে, এ রকম নানা অদ্ভুত ঘটনা সব কিছুই আমরা জানতে পারছি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। শুধু এগুলি নয়, এছাড়াও নানা রকম শিক্ষামূলক ভিডিওর মাধ্যমে, আমরা শিক্ষা নিতে পারি নিজেদের জীবনে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জানাই কুর্নিশ পৃথিবীতে প্রত্যেকটি প্রজাতির বাঁচার অধিকার রয়েছে।

ভাইরাল ভিডিও

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!