আল-জাজিরায় আসছে রাষ্ট্রবিরোধী আরো ১০ প্রতিবেদন?

আল-জাজিরায় আসছে রাষ্ট্রবিরোধী আরো ১০ প্রতিবেদন?

বিশ্ব গণমাধ্যমে নানা কারণে বিতর্কিত এবং সমালোচিত আল-জাজিরা। ফেক নিউজ, জঙ্গী গোষ্ঠীকে মদদ দেয়া সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এই টেলিভিশন চ্যানেলটি। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করে ধিকৃত হয় মৌলবাদী এই টেলিভিশনটি।

এখন যুদ্ধাপরাধীদের টাকায় বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারে মাঠে নেমেছে বিতর্কিত এই টিভি চ্যানেলটি। গতকাল এই চ্যানেলে একটি ঘন্টাব্যাপী প্রামাণ্য চিত্র প্রচারিত হয়েছে। এর শিরোনাম ছিলো ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার’স ম্যান।’ এই প্রামাণ্য চিত্রটি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বাংলা ইনসাইডার পেয়েছে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রামাণ্য চিত্রটি দুবছর ধরে নির্মিত হয়েছে। যদিও বলা হয়েছে, এটি আল-জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

কিন্তু প্রকৃত তথ্য হলো তারেক জিয়ার তত্বাবধানে এই প্রামাণ্য চিত্র বানিয়েছে মূলত: তিনজন। এরা হলেন ডেভিড বার্গম্যান, নেত্র নিউজের তাসনিম খলিল এবং কনক সারওয়ার। এই প্রামাণ্য চিত্রের জন্য প্রথম বাজেট ছিলো ২০ কোটি টাকা পরে এটা বেড়ে দাড়ায় ৫০ কোটিতে। পুরো অর্থ যোগান দিয়েছে যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তানরা। যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেমের পুত্র, সাকা চৌধুরীর পুত্র এবং গোলাম আযমের পুত্র হলো এই প্রজেক্টের প্রধান অর্থ যোগানদাতা। প্রামাণ্য চিত্রটি সম্পাদনা করা হয় ডেভিড বার্গম্যানের লন্ডন স্টুডিওতে।

এটি নির্মিত হবার পর প্রথমে এটি প্রচারের কথা ছিলো বিবিসি চ্যানেল ফোরে। কিন্তু সম্পাদকীয় নীতির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এটি বিবিসি কর্তৃপক্ষ প্রচারে অস্বীকৃতি জানায়। পরে এটি আল-জাজিরায় চাংক ভাড়া করে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে এরকম আরো দশটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের জন্য চাংক ভাড়া নেয়া হয়েছে আল-জাজিরায়। নেত্র নিউজের পক্ষ থেকে এই চাংক ভাড়া নেয়া হয়েছে। এই ১০ পর্বে এভাবেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুৎসা প্রচার করা হবে বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশের প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামাতের লোকজনের কাছ থেকে নানা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তারেকের স্থানীয় কিছু এজেন্ট ব্যবসায়ী, দালাল সেজে কারো কারো সাথে দেখা করে, তাদের সঙ্গে কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে লন্ডনে পাঠিয়েছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদন গুলো তৈরী হয়েছে বলে জানা গেছে। নানা অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণ করাই হলো এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য। এতদিন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীর অপ প্রচারের পর এবার মূলধারার গণমাধ্যমে এই প্রচারণা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এখানে যুদ্ধাপরাধীদের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে আল-জাজিরা।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!