গরমে হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়

গরমে হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ত্রাসে অন্যান্য রোগ নিয়ে কেউই তেমন সচেতন বা সতর্ক থাকছেন না! এই গরমে নানারকম রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। বিশেষ করে গরমে হেপাটাইটিস ভাইরাসের প্রকোপ অনেকটাই বেড়ে যায়। এই ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী।

৫ ধরনের হেপাটাইটিস ভাইরাস আছে। যেমন- হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই। গরম বাড়তেই হেপাটাইটিসের প্রকোপও বেড়ে যায়। জানলে অবাক হবেন, হেপাটাইটিস ভাইরাসে পৃথিবীর প্রায় ৩ কোটি মানুষ প্রতি বছর আক্রান্ত হচ্ছেন।

সারা বিশ্বে ২০০ কোটির বেশি মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত এবং ৪০ কোটির বেশি মানুষ এই রোগের জীবাণু অজান্তেই বহন করে চলেছেন। হেপাটাইটিস ভাইরাস সংক্রমণের ফলে লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে।

এ ছাড়াও পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সময় মতো এর চিকিৎসা ব্যবস্থা না নিলে মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক গরমে হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়-

দীর্ঘক্ষণ কেটে রাখা ফল খাবেন না। টাটকা ফল কেটে তাৎক্ষণিক খাবেন।
রাস্তার বিভিন্ন মশলাদার ও তেলেভাজা খাবার এ সময় একেবারেই খাবেন না।
বাইরে বের হওয়ার সময় পানি সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে বোতলজাত পানি কিনে খান।

অন্যের ব্যবহার করা চিরুনি, দাড়ি কাটার সরঞ্জাম, আইলাইনার, লিপস্টিক, কানের দুল ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না।
দাড়ি কাটার সরঞ্জাম নিরাপদে পরিচ্ছন্ন জায়গায় সরিয়ে রাখুন।
এক বছর বয়সী শিশুদেরকে হেপাটাইটিস বি এর টিকা দিন।

নিয়মিত পানি ফুটিয়ে পান করুন।
ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন। যেহেতু হেপাটাটইটিস লিভারে মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে, তাই বিষাক্ত উপাদান গ্রহণের ফলে প্রদাহ আরও বাড়তে পারে।
শরীরের কোনও স্থানে ট্যাটু করার মাধ্যমেও প্রবেশ করতে পারে হেপাটাইটিস ভাইরাস।
জেনে নিন হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণসমূহ-

ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পরে, দেড় থেকে ৬ মাসের মধ্যে শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। তবে ৬ মাস পর থেকে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে বেশ কিছু সাধারণ লক্ষণসমূহ দেখা দিতে পারে, যেমন-

১. জন্ডিস (ত্বক এবং চোখের হলুদ হওয়া)
২. গাঢ় রঙের প্রস্রাব, হালকা রঙের মল
৩. ক্লান্তি
৪. পেটে ব্যথা
৫. ক্ষুধামন্দা
৬. বমি বমি ভাব
৭. ডায়রিয়া
৮. জ্বর

হেপাটাইটিস বি সাধারণত নীরব ঘাতক। ১০-২০ বছরের মধ্যে শরীরে সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখা দিলেও এরই মধ্যে লিভারে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় ভাইরাস। লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে যায় হেপাটাইটিস ভাইরাসের কারণে। এরপর যেসব লক্ষণ দেখা দেয়-

১. পেটের গহ্বরে তরল জমে যাওয়া এবং ফোলাভাব
২. পেটের উপর স্টার-আকৃতির শিরা দেখা যায়
৪. জন্ডিস
৫. চুলকানি
৬. সহজ ক্ষত এবং রক্তপাত

হেপাটাইটিস বি নির্ণয়ের পর নিয়মিত চিকিৎসাধীন থাকতে হবে। চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ মেনে চলতে হবে। না হলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারের মারাত্মক হয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: এভ্রিডে হেলথ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!