৬টি ভ’য়ংকর রোগ থেকে বাঁ’চবেন শাপলা খেলে!

৬টি ভ’য়ংকর রোগ থেকে বাঁ’চবেন শাপলা খেলে!

ময়মনসিংহের সদর ও তারাকান্দা উপজে’লার বিভিন্ন খাল-বিলে ফোটে বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা। এর মধ্যে নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার প্রতি আক’র্ষণ সবার চেয়ে বেশী।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এ ফুল ফোটা শুরু হয়ে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত বিল-ঝিল জলা’শয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জ’ন্ম নেয় লাল শাপলা। আবহমান কাল থেকে শাপলা মানুষের খাদ্য তালিকায় সবজি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সদর ও তারাকান্দা উপজে’লায় বিলাঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষেরা অভাবী সংসারে এক সময় শাপলা খেয়েই জীবিকা নির্বাহ করার কথা মানুষের মুখে এখনো শোনা যায়। সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙ্গের শাপলা ঔষধী গুনে সমৃদ্ধ। ছোটদের কাছে শাপলা ফুল একটি প্রিয় খেলনার পাশাপাশি অনন্ত সৌন্দর্যের আক’র্ষণ।

ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা আঞ্চলিক সড়কের সদর উপজে’লার গাছতলা নামক বাজারে পাশে তিতারপুরী বিল। ওই বাজারের ব্যবসায়ী মোশাররফ বলেন, সকালে তিতারপুরী বিলে লাল শাপলা ফুটে উঠে। এ সময় দুর-দুরান্ত থেকে মানুষ লাল শাপলা দে’খতে ভীড় জমায়।

তাছাড়া বিলটি রাস্তার পাশে হওয়ায় অনেকেই গাড়ি থামিয়ে এই দৃ’শ্য দেখে। তিনি বলেন, তিতারপুরী বিল ছাড়াও তারাকান্দায় খেলাপুরী, দুবরাপুরী, বাউশী বিলে আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে এ সময় লাল শাপলা ও সাদা শাপলা দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে আগের মত আর লাল শাপলা ফুল দেখা যায় না। তবে কিছু কিছু বিলাঞ্চলে এখনো ফুটে থাকতে দেখা যায় নয়নাভিরাম লাল শাপলা।

ওইসব লাল শাপলার বিলে ছুঁটে চলেছেন প্রকৃতি প্রেমীরা। কয়েক বছর আগেও বর্ষা কাল থেকে শরৎকালের শেষ ভাগ পর্যন্ত বিল এলাকায় মাইলের পর মাইল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকত নয়নাভিরাম র’ক্ত শাপলা বা লাল শাপলা।

বর্ষার শুরুতে শাপলার জ’ন্ম হলেও হেমন্তের শিশির ভেজা রোদমাখা সকালের জলা’শয়ে চোখ পড়লে রং-বেরঙের শাপলার বাহারী রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। মনে হত কোন এক সাজানো ফুল বাগানের মধ্যে শ্রষ্টার শ্রেষ্ট জীব হিসেবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভো’গ করছি।

এদৃ’শ্য চোখে না দেখলে বোঝানো যাবে না। ওইসব লাল শাপলার বিলে ছুঁটে আসতেন প্রকৃতি প্রেমীরা। স্থা’নীয় কৃষক নইমউদ্দিন বলেন, অনেকে আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। স্থা’নীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার লোকজন শাপলা তুলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বিক্রি কম করলেও শহুরে জীবনেও খাদ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, বাড়তি জনগণের চা’পের কারণে আবাদী জমি ভরাট করে বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের বানানোর ফলে বিলের পরিমান যেমন কমছে, তেমনি শাপলা জ’ন্মানোর জায়গাও কমে আ’সছে।

তাছাড়া জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষাবাদের কারণে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল ও জলা’শয় ভরাটের কারনে বিলাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে লাল শাপলা। এখন খাল-বিল ও জলা’শয় থেকে প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে লাল শাপলা। অনেকে সৌন্দর্যের জন্য পুকুরেও চাষ করত লাল শাপলা। তবে ওই সকল পুকুরে কার্প জাতীয় মাছ যেমন- রোবোকার্প, গ্রাস কার্প মাছ চাষের ফলে শাপলার বংশ বি’স্তার সমুলে বিনাশ হয়ে যাচ্ছে।

জা’না যায, সাধারণত শাপলা তিন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সাদা, বেগুনী (হুন্দি শাপলা) ও অন্যটি লাল রংয়ের। এর মধ্যে সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙ্গের শাপলা ঔষধী কাজে ব্যবহৃত হয়। শাপলা খুব পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি।

সাধারণ শাক-শবজির চেয়ে এর পুষ্টিগুন অনেক বেশি। শাপলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। শাপলায় ক্যালসিয়ামের পরিমাণ আলুর চেয়ে সাতগুণ বেশি। তিনি আরো বলেন, শাপলা চুলকানী ও র’ক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী।

তাছাড়া ডায়াবেটিস, বুক জ্বা’লা, লিভার, ইউরিনারী স’মস্যার সমাধানসহ গু’রুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পা’লন করে। প্রতি ১’শ গ্রাম শাপলার লতায় রয়েছে খনিজ পদার্থ ১.৩ গ্রাম, এ্যাশ ৮.৭ গ্রাম, খাদ্যপ্রা’ণ ১৪২ কিলো, ক্যালোরি- প্রোটিন ৩.১ গ্রাম, শর্করা ৩১.৭ গ্রাম, ক্যালশিয়াম ০.৫২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ০.৩২, ড্রাই মেটার ৮.৪, ক্রুড আমিষ ১৬.৮, ক্রুড ফ্যাট ২.৮ ক্রুড ফাইবার ৬২.৩, নাইট্রোজেন ৩৫.৪, সোডিয়াম ১.১৯, পটাশিয়াম ২.২৩ ভাগ। ঐতিহাসিক কাল থেকেই শাপলার ফল (ঢ্যাপ) দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খৈ ভাজা যায়। যেটি গ্রামগঞ্জে ঢ্যাপের খৈ বলে পরিচিত।

স্থা’নীয় কৃষকরা দা’বি করেন তিতারপুরী বিল ছাড়াও তারাকান্দায় খেলাপুরী, দুবরাপুরী, বাউশী বিল কম করে হলেও ১ হাজার একর জমি দখল করে আছে। অনেকের কাছে শাপলা সৌন্দর্য আর আনন্দের বিষয় হলেও কৃষকের কাছে চরম বির’ক্তিকর বলে দা’বি ক’রেছেন অনেকে।

বোরো মৌসুমের আগে জমিতে চাষাবাদের জন্য এই শাপলার কারণে জমি পরিস্কার ক’রতে তাদের গুনতে হয় সাধারণের চেয়ে অতিরি’ক্ত অর্থ। ভাল চাষ না ক’রতে পারলে জমিতে ফলনও কম পাওয়া যায়। তবে প্রকৃতি প্রেমীরা মনে করেন, খাল-বিল ও আব’দ্ধ জলা’শয়গুলো শুকিয়ে রাখার কারনে শাপলা জ’ন্মানোর ক্ষেত্র ন’ষ্ট হলেও সরকারিভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!