টাকা দিয়ে ২০ দিনে’র জন্য তরুণীদে’র বি’য়ে ক’রেন ধনী পর্যটকে’রা

টাকা দিয়ে ২০ দিনে’র জন্য তরুণীদে’র বি’য়ে ক’রেন ধনী পর্যটকে’রা

মুসলিম পুরুষদের শর্ত সা’পেক্ষে চার স্ত্রী গ্রহণের বিধান রয়েছে ইসলাম ধ’র্মে। তাই বলে কেবল গ্রীষ্মকালের জন্য বিয়ে করার কথা কখনো শুনেছেন। শুনুন আর নাই শুনুন, এই অদ্ভুদ বিয়ের চল রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ মিশরে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন।

তেমনটাই হয়েছে কায়রোয়েতে। কায়রোর আশপাশের এলাকায় মূলত দরিদ্র লোকেদের বাস। যাদের চার ভাগের এক ভাগ মানুষকে দিনে দুই ডলারেরও (প্রায় ১৫০ টাকা) কম খরচে চলতে হয়।

সে’ক্স ট্যুরিজম এই চরম দারিদ্রদের জীবনে নতুন আশা সৃষ্টি করছে। পর্যটকদের কেউ কেউ তো মেয়ের কুমা’রিত্ব, বয়স, চেহারা এবং বিয়ের স্থায়িত্ব বিবেচনা করে এক লাখ ইউরো (প্রায় ৯৫ লাখ টাকা) পর্যন্ত খরচ করতে রাজি হয়।

অর্থের লোভ দেখিয়ে মিশরের শত শত কিশোরীকে সাময়িক বিয়ে করে থাকেন ধনী দেশগু’লো থেকে আগত পর্যটকরা। দেশটিতে বিবাহবহির্ভূ’ত সম্পর্ক নি’ষি’দ্ধ হওয়ায় নিজেদের যৌ’ন চাহিদা মেটাতে এমন সাময়িক বিয়ে করছেন এখানে বেড়াতে আসা বিদেশি পর্যটকরা। এসব মেয়েরা দেশটিতে ‘গ্রীষ্মকালীন বউ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

এমনই বেশ কয়েকটি ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ পায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। তার মধ্যে একটি হলো ২০০৮ সালের গ্রীষ্মকালের একদিন। মিশরীয় কন্যা হুরাইরার বয়স তখন কেবল ১৫ বছর। দরজা খুলেই বাইরে এক পুরুষকে তার বাবা ও সৎ মায়ের স’ঙ্গে কথা বলতে দেখল সে।

তার সামনেই হলো সব কথা। মাত্র ১,৭৫০ ইউরো (প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা) ‘মোহরানা’র বিনিময়ে সৌদি আরব থেকে আসা সেই ব্যক্তিকে তার বিয়ে করতে হবে। ওই বিয়ের বয়স ছিল মাত্র ২০ দিন।

এই বিয়ের মাধ্যমে ক্রমাগত ধ’র্ষণের শিকার ‘হতে হয় হুরাইরাকে। এরপর গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ। হুরাইরাকে আবার বাবা-মায়ের কাছে ফেরত দিয়ে নিজ দেশে ফেরত চলে যান ওই সৌদি নাগরিক। আর কখনো সে ব্যক্তির স’ঙ্গে দেখা হয় নি হুরাইরার।

ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশরে যৌ’নকর্মীদের আরেক নাম ‘গ্রীষ্মকালীন স্ত্রী’। তাদেরই একজন হুরাইরা। প্রতি বছরই উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ থেকে এমন ‘স্ত্রী’বেছে নিতে মিশরে আসেন পর্যটকেরা। এর বিনিময়ে মেয়ের পরিবারকে যে অর্থ দেয়া হয় তা তাদের জন্য অনেক কিছু। হুরাইরা বলেন, সবকিছু খুব লোভনীয় লাগছিল। আমা’র পরিবার আমাকে নতুন কাপড় আর উপহারের লোভ দেখায়। আমি তখন খুব ছোট ছিলাম।

শেষ পর্যন্ত আমি রাজি হয়ে যাই। হুরাইরার পরিবার তার বিয়ের যৌ’তুকের টাকায় একটি ফ্রিজ আর ওয়াশিং মেশিন কিনেছিলো। হুরাইরার বয়স এখন ২৮। এরমধ্যে তার আরো আট’বার বিয়ে হয়েছে। প্রতিবারই অল্প কিছু দিনের জন্য। নিজের অতীত নিয়ে তিনি লজ্জিত এবং নিজের আসল নামও প্রকাশ করতে চান না। বাইরে বের হলে নিজেকে সবসময় আড়াল করে রাখেন কালো নেকাবে। তিনি বলেন, ‘আমি তখন খুব সহজ সরল ছিলাম, ভালোবাসায় বিশ্বা’স করতাম।

বিয়ের প্রথম রাত খুব ভ’য়াবহ ছিল। এরপর থেকে আমি মানসিক সমস্যায় ভুগছি।’তবে এরপরও এই বিয়ের সংস্কৃতি থেকে বের ‘হতে পারে নি। কেননা দারিদ্রতার কারণে বারবার জোর করে বিয়ে দিয়েছেন তার বাবা।মিশরে এমন হুরাইরা একজন নয়, বহু। আর সঠিক আইন না থাকায় অ’পরাধীদের সাজা দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। হয়তো কোনো দালালকে ধ’রা হলো। তাকে শাস্তি দেয়া হলো ১৮ বছর। তবে কদাচিৎ দু একজনকে শাস্তি দিয়ে কি আর এসব অ’পরাধ বন্ধ করা যায়।

তাই মিশরে বিয়ের নামে অবাধে চলছে পতি’তাবৃত্তি। আর দেশটিতে এ ধরনের বিয়ে সহজলভ্য হওয়ায় সৌদি আরব, কুয়েত, ওমানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসছে পুরুষেরা। আর লোভে পড়ে তাদের ফাঁ’দে পা দিচ্ছে হু’মায়রার মতো সরল আর

অল্পবয়সী মেয়েরা। হুরাইরা এখন বাবা ও সৎ মায়ের স’ঙ্গেই আছেন। সত্যিকারের বিয়ের জন্য মনে মনে একজন সত্যিকার প্রেমিক পুরুষের সন্ধান করছেন হুরাইরা৷ তবে হুরাইরার সে আশা পূরণ হওয়ার সম্ভবনা নেই বললেই চলে।

কেননা মিশরে ‘গ্রীষ্মকালীন স্ত্রী’দের খুবই খারাপ চোখে দেখা হয়। মিশরের রক্ষণশীল সমাজের কোনো পুরুষই এমন মেয়েকে বিয়ের যোগ্য মনে করে না। তাই ফের হয়তো কোনো বিদেশি পর্যটকের স’ঙ্গে আরেক বার গ্রীষ্মকালীন বিয়েতে রাজি ‘হতে হবে হুরাইরাকে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!