প্রসব বেদনায় থেমে গেল ট্রেন, জন্ম নিল ফুটফুটে কন্যা

প্রসব বেদনায় থেমে গেল ট্রেন, জন্ম নিল ফুটফুটে কন্যা

দিনাজপুরে আন্তনগর দ্রুতযান চলন্ত ট্রেনে এক প্রসূতি মা মুক্তি পারভীন কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। প্রসুতি মা মুক্তি পারভীন ও তার সন্তানকে বিনা ভাড়ায় হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে পৌঁছে দিয়েছে দিনাজপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

চলন্ত টেনে সন্তান জন্ম দেয়া মুক্তি পারভীনকে দিনাজপুর জেনারেল হাসাপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ট্রেনের নামে নবজাতক কন্যা সন্তানের নাম রাখা হয়েছে মিতালী। নতুন অতিথির আগমনের জন্য আন্তনগর দ্রুতযান ট্রেন নির্ধারিত সময়ের ১৩ মিনিট পর দিনাজপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে।

হাসপাতালের পক্ষ থেকে মুক্তি পারভীন ও নবজাতক মিতালীকে একগুচ্ছ ফুল, ডালাভর্তি ফল, বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নতুন জামাকাপড় উপহার দেয়া হয়েছে। মুক্তি পারভীন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভুমরাদহ হাজী পাড়া গ্রামের মনসুর আলীর স্ত্রী। রোববার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ স্টেশন থেকে দিনাজপুরে যাওয়ার সময় আন্তনগর ট্রেন দ্রুতযান এক্সপ্রেসে এই ঘটনা ঘটে।

মুক্তি পারভীনের স্বামী মনসুর আলী জানান, এটা তাদের দ্বিতীয় সন্তান। তাদের ২ বছর বয়সের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে দিনাজপুরে সেন্ট ভিনসেন্ট (মিশন হাসাপতালে) হাসপাতালে চিকিৎসা করাতেন। আগামী ৮ এপ্রিল সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল।

শনিবার সকালে স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর উদ্দ্যেশে ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ স্টেশনে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসের শোভন শ্রেণি ৭৫৮ নং ট্রেনের ঙ বগিতে করে দিনাজপুরে আসছিলেন। পথে প্রসব ব্যথা শুরু হয়। এ সময় ট্রেনে থাকা নারী যাত্রীদের সহায়তায় মুক্তি পারভীন নিরাপদে সন্তান প্রসব করেন।

ততক্ষণে ট্রেন এসে দিনাজপুর স্টেশনে পৌঁছালেও ফুল না পড়ার কারণে মুক্তি পারভীন ও নবজাতককে ট্রেন থেকে নামানোর মত পরিস্থিতি ছিল না। এ সময় স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট এবিএম জিয়াউর রহমান সিদ্ধান্ত দেন প্রসূতি মাতা মুক্তি পারভীন ও নবজাতক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন দিনাজপুর স্টেশন ছেড়ে যাবে না।

পরে জিআরপি পুলিশ ও নারী স্টেশন মাস্টার নার্গিস বেগম এবং একজন স্থানীয় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দাইয়ের সহযোগীতায় প্রসূতি মুক্তি পারভীন ও নবজাতককে নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে বিনা ভাড়ায় হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে পৌঁছে দিয়েছে দিনাজপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সহযোগীতায় পেয়ে তারা খুব খুশি।

দ্রুতযান ট্রেন নির্ধারিত সময়ের ১৩ মিনিট পর সকাল ১০ টার ১৫ মিনিটের পরিবর্তে ১০ টা ২৭ মিনিটে দিনাজপুর স্টেশন ছেড়ে যায় আন্তনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট এবিএম জিয়াউর রহমান জানান, সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে প্রসুতি মা মুক্তি পারভীন ও নবজাতককে নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে বিনা ভাড়ায় হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে পৌঁছে দিয়েছি। বিষয়টি বাংরাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহী সুফি নুর মোহাম্মদকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ির মধ্যে চলাচলকারী মিতালী ট্রেনের নামে নবজাতক কন্যা সন্তানটির নামে মিতালী রাখতে বলেন। তার নির্দেশনায় নবজাতকের নাম মিতালী রাখা হয়েছে। নবজাতকের মা- বাবা এই নাম রাখায় খুব খুশি।

দিনাজপুর জেনারেল হাসাপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পারভেজ সোহেল রানা জানান, প্রসূতি পারভীন ও নবজাতক মিতালীকে গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। মা ও নবজাতক সুস্থ রয়েছেন। সোমবার তাদেরকে হাসাপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হতে পারে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!